যে প্রেক্ষাপটে শুরু হয় মে দিবসের আন্দোলন ও মে দিবসের সংগ্রামী ইতিহাস - Alorpoth24.com | সত্য প্রকাশে কলম চলবেই

শিরোনাম

30 April, 2021

যে প্রেক্ষাপটে শুরু হয় মে দিবসের আন্দোলন ও মে দিবসের সংগ্রামী ইতিহাস

এম.কে.জামান সুমন; ঢেমরা প্রতিনিধি:

আজ মহান মে দিবস। মহান মে দিবস আদতে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসাবে পরিচিত। ভারত সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আজ সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালন করে থাকে। শ্রমজীবী প্রতিটি মানুষের কাছে আজ এই দিনটির আলাদা করে কোনও গুরুত্ব উপলব্ধি করা না গেলেও আজ থেকে প্রায় ১৩৫ বছর আগে এক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে শ্রমিকরা অধিকার আদায় করে নিয়েছিলেন। ১৮৮০ সালের ধারাবাহিক আন্দোলনের সূত্রপাতের ফলে ১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে শ্রমিকরা দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে শিল্পাঞ্চল এলাকায় ধর্মঘট করেন। আট ঘণ্টার বেশি কাজ করানোর তীব্র প্রতিবাদ করেন। এছাড়া আরও নানা দাবি ছিল।

যে ভাবে আন্দোলের সূত্রপাত হয়েছিল আন্দোলের সূত্রপাত হয়েছিল আমেরিকার শিকাগোর হে মার্কেটের সামনে, সেদিন বিশাল আকারে প্রায় ৪,00,000 শ্রমিক জমায়েত হয়। শ্রমিকরা বিক্ষোভ দেখালে গুলি চালায় পুলিশ। যার ফলে ১০-১২ জনের মৃত্যু হয় ও কয়েকশত শ্রমিক আহত হয়। এর থেকেই সারা বিশ্বে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষ এক সুরে প্রতিবাদ জানায়।

পরবর্তীতে সরকার দাবি মেনে নেয় সরকার দাবি মেনে নিয়ে অবশেষে ১৯০৪ সালে অ্যামস্টারড্যামে দৈনিক আটঘন্টা কাজের সময় নির্ধারণের দাবি আদায়ের জন্য এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মিছিল ও শোভাযাত্রা করে। বিশ্বজুড়ে শ্রমজীবী মানুষ পয়লা মে কাজ না করার সিদ্ধান্ত নেয়। শ্রমজীবী মানুষের চাপে পড়ে সরকার আট ঘণ্টা কাজের দাবি মানতে শেষ অবধি বাধ্য হয়। পরে আত্মত্যাগী শ্রমিকদের স্মরণে মে মাসের প্রথম দিনটি শ্রমজীবী দিবস হিসাবে পালন শুরু হয়।

বিশ্বের নানা দেশে মে দিবস পালন বিশ্বের নানা দেশে মে দিবস পালন হয়। যেমন-সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন, চীন, কিউবা-সহ বিশ্বের অনেক দেশেই মে দিবস একটি আলাদা তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এই দেশগুলোতে পয়লা মে সামরিক কুচকাওয়াজের আয়োজনও করা হয়। ভারতে দুই একটি জরুরী ক্ষেত্র ছাড়া সমস্ত শ্রমজীবী সেক্টর, অফিস-আদালত মে দিবসে বন্ধ থাকে। আমেরিকা এবং কানাডাতে অবশ্য সেপ্টেম্বর মাসে শ্রম দিবস পালিত হয়।

শ্রমিকদের দুর্দশা লাঘব শ্রমিকদের দুর্দশা লাঘবে উনিশ শতকের প্রথম দিকে শ্রমিকদের প্রতি মুহূর্তে শোষিত হতে হতো মালিকপক্ষের কাছে। সপ্তাহে ছয় দিন দৈনিক ১০-১২ ঘণ্টা কাজ করার পর জুটত সামান্য মজুরি। এছাড়া কাজ করানো হতো অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে, যেখানে রোগ-ব্যাধি ও মৃত্যু প্রায় লেগেই থাকত। তখন শ্রমিকদের কোনও সংগঠন ছিল না যারা শ্রমিকদের কথা মালিকপক্ষের কাছে তুলে ধরবে।

অবশেষে সাফল্ত া অবশেষে সাফল্য, এরই পাশাপাশি সারা বিশ্বে তখন শ্রমজীবী মানুষদের মধ্যে সমাজতন্ত্র ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। মালিক ও শাসক শ্রেণির রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়। তারপর দীর্ঘদিনের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অবশেষে মে দিবস পালন শুরু হয়।

প্রসঙ্গ বাংলাদেশঃ মহান মে দিবসকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে বিভিন্ন শ্রমিক ফেডারেশন, শ্রমজীবি সংগঠন ও বিভিন্ন রাজনীতিক দলের ব্যানারে জাতীয় প্রেস ক্লাব সহ দেশের অনেক স্থানে বিভিন্ন রকম কর্মসূচী নিয়ে থাকেন।

No comments:

Post a Comment