নন-এমপিও শিক্ষক প্রণোদনা, ভোগান্তি ও দায়মুক্তি - - Alorpoth24.com | সত্য প্রকাশে কলম চলবেই

শিরোনাম

06 July, 2020

নন-এমপিও শিক্ষক প্রণোদনা, ভোগান্তি ও দায়মুক্তি -


 এইচ আর অনিক
শিক্ষক ও কলামিস্ট, নরসিংদী 

"শিক্ষা নিয়ে গড়বো দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ" এই স্লোগান দিয়ে ক্যারেশমেটিক শিক্ষা প্রদানের জন্য নানামুখী কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।আজকে একটি কথা না বললেই নয়-"কাজির গরু গোয়ালে আছে কেতাবে নাই" এজন্য বাংলাদেশের পার্সপেক্টিভ এর আলোকে বিবেচনা করলে আমার মনে হয় সবার পড়ালেখা করা উচিত নয়।

আমরা এই প্রণোদনা ও কোনরকম দায়মুক্তি চাই না,
নন-এমপিও শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান গুলোর ভবিষ্যৎ বিনির্মানে সরকার কর্তৃক নানামুখী স্থায়ী পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছে শিক্ষকসমাজ। নন-এমপিও শিক্ষকদের কিছু শর্তের আলোকে বিভিন্ন বিপদআপদ, দিবস,উৎসব ও চিকিৎসা সেবা প্রদান করার জন্য আর্থিক সহযোগিতার একটি শক্তিশালী প্লাটফর্ম তৈরী করতে সরকারের প্রতি জোড়ালো পদক্ষেপ কামনা করেন ভুক্তভোগী বেসরকারি শিক্ষক।

আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একজন শিক্ষাবান্ধব জননেত্রী। তিনি একটি ব্যতিক্রমি উদ্যোগ হাতে নিয়ে বেসরকারি শিক্ষকদের ভবিষ্যত জীবন পরিচালনায় স্থায়ী একটি কর্মসূচি গ্রহণ করবেন বলে আমরা আশাবাদী । তা না হলে মেধাবীরা শিক্ষিত বা শিক্ষক হওয়ার পরিবর্তে উদ্যোক্তা হওয়ার দিকে অধিক ঝুকে পড়বে।তখন এই দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো পরিচালনা করার জন্য সরকার বাহাদুর শিক্ষক হিসেবে মেধাবীদের নিয়োগ দিতে পারবেন না পাশাপাশি শিক্ষার মান ও অগ্রগতি হ্রাস পাবে।।রাষ্ট্র যদি দেশকে শিক্ষিত ও উন্নত জাতি গঠন করতে চায় তাহলে শিক্ষকদের মানসম্মত সুযোগ-সুবিধা প্রদান করার মাধ্যমে এগিয়ে আসতে হবে।

সরকার যদি শিক্ষা ও শিক্ষক নিয়ে দেশ গড়তেই চায় তাহলে আজকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের প্রণোদনার নামে কেন এই ভোগান্তি? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহোদয় নন-এমপিও প্রতিষ্ঠান গুলোর শিক্ষকদের কে প্রণোদনা আওতায় এনেছে এতে আমরা খুশি ও আনন্দিত।বাংলাদেশের সকল সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে যতোজন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে তার থেকে ৩/৪ গুণ বেশি শিক্ষার্থী প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান গুলোতে অধ্যায়ন করে নিয়মিত।এইসকল নন-এমপিও শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান সবসময় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও সরকারি যেকোনো কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজে সহযোগিতা করেছে এবং এখনো করে যাচ্ছে।

সরকারি যেকোনো আদেশ বা অর্ডার পেলে সবার আগে ও সবচেয়ে সুন্দর করে সেই কাজগুলো সঠিক সময়ে নিশ্চিত করে নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানসমূহ।সরকারের যেকোনো তহবিল গঠন,বোর্ডের যৌক্তিক সকল চাহিদা মেটাতেও সর্বদা তৎপর থাকে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান গুলো। বাংলাদেশকে বিশ্বমানচিত্রে পৌছিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে নন-এমপিও শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের অবদান অনস্বীকার্য।
প্রতিটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে বিরাজ করে আদর্শ মানুষ তৈরির পাশাপাশি পড়াশোনার প্রকৃত মান ও সুসংগঠিত পাঠদান পদ্ধতি। সুন্দর নিয়মশৃঙ্খলা, রুচিবোধ ক্লাসরুম, শিষ্টাচার ও আগামী প্রজন্মকে শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে তাদের রয়েছে বিরামহীন পরিশ্রম।প্রতিটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান ফলাফলের দিকে সবার চেয়ে এগিয়ে।যেসকল শিক্ষার্থী পড়াশোনাই করতে চায় না তাদের কতো পরামর্শ, কাউন্সিলিং,প্রেরণাদায়ক কথা বলে ও টিউশন ফি নামে মাত্র নিয়ে জাতিকে শিক্ষিত করে তুলছে নন-এমপিও শিক্ষক ও প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান।

জাতির শিক্ষার হার বাড়াতে ও বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে সরকারের সবচেয়ে কাছের বন্ধু হয়ে নিরন্তর সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান গুলো। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান বোর্ডে ১ম হওয়ার পাশাপাশি ভালো প্লেস অর্জন করার সক্ষমতা দেখিয়েছে ।সরকারি এই প্রণোদনা পাওয়ার জন্য একজন শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানকে এতো বেশি এলোমেলো ডিসিশন প্রেরণ ও আদেশ প্রদান করা হয়েছে যা প্রতিটি শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের জন্য 'মরার উপর খাড়ার ঘা' 

প্রণোদনা পাওয়ার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ড থেকে নন-এমপিও শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান বরাবর অনেক আদেশনামা জেলা-উপজেলা শিক্ষা অফিসে প্রদান করা হলেও শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান গুলোকে ভালো করে সঠিক বিষয়টি শিক্ষা অফিস থেকে যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে ।অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান উপজেলা কর্মকর্তার নিকটে গিয়ে তথ্য নিয়ে এসেছেন বলে জানা যায়।শিক্ষা অফিস গুলোতে গিয়ে সঠিক বিষয় ও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যায়না। যদি কোন কথা বা চিঠির অর্ডার শিক্ষকরা না বুঝে থাকে তাহলে প্রশ্ন করে সমাধানের জন্য কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়না।একজনকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন উনি জানেন না, উনি বলেন তিনি জানেন, তিনি বলেন সে জানেন ইত্যাদি কথা শুনে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছে শিক্ষকরা। আমাদের জাতি গড়ার কারিগর গুলোকে দেয়া হচ্ছে মানসিক অশান্তি, হয়রানি ও অস্থিরতা। আজ তাদের কাধেঁ ঝুলে রয়েছে অনিশ্চিত এক ভবিষ্যৎ জীবন। শিক্ষকরা আজ তাদের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে, মুষড়ে পড়ছে। ভেঙে পড়ছে তাদের সকল কর্ম স্পৃহা ও মানসিক উদ্দীপনা । 

কবি হাসান হামিদ বলেছেন-"যেমনি আছি তেমনি রবো বদলাবো না" 

তবে বাস্তবতার নিরিখে ও আগামী প্রজন্মের মুক্তির জন্য আমাদের পরিবর্তন দরকার সর্বাগ্রে। 
খুব ভালো করে মনে রাখতে হবে শিক্ষক বাঁচলে, শিক্ষা বাঁচবে -শিক্ষা বাঁচলে জাতি বাঁচবে।

লেখকঃ-
অধ্যক্ষ(ভারপ্রাপ্ত)
নরসিংদী ইউনাইটেড কলেজ

No comments:

Post a Comment