পূর্বধলা উপজেলায় আগিয়া ইউনিয়নে হত দরিদ্র চালের কার্ডের অনিয়ম ও দূর্নীতি - Alorpoth24.com | সত্য প্রকাশে কলম চলবেই

শিরোনাম

06 July, 2020

পূর্বধলা উপজেলায় আগিয়া ইউনিয়নে হত দরিদ্র চালের কার্ডের অনিয়ম ও দূর্নীতি

তানজিলা আক্তার রুবি, আটপাড়া (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি:

বাংলাদেশর মানুষের খাদ্য চাহিদা মেটাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখহাসিনা খাদ্য বান্ধব প্রকল্পের আওতায় হত দরিদ্রের মাঝে ১০টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি চাল বিরতণের বাস্তবায়ন করেন।​
কিন্তু সব জায়গায় যখন অনিয়ম আর দূর্নীতিতে ভরা সেখানে গরিবের চাল চুরি ডাকাতি করতে ও বিবেকে ও​ বাজে না কিছু দূর্নীতিবাজদের আর তাদের​ সহযোগিতা করে কিছু দূর্নীতিবাজ​ সরকারি অফিসাররা। এমনি একটা অভিযোগ​ ​ পাওয়া যায় নেত্রকোণা জেলার পূর্বধলা উপজেলায়​ আগিয়া ইউপি সদস্যরা​ ও সরকারি আমলাদের।​ ​ আগিয়া ইউনিয়নের হত দরিদ্র ১০টাকা দরে চালের কার্ড নিয়ে পাওয়া যায় অনিয়ম ও দূর্নীতি।​ ​

চালের কার্ডও​ বিতরণের অনিয়ম-দুর্নীতির নিয়ে নেত্রকোণা জেলার প্রশাসক বরাবর অভিযোগ করেন আগিয়া ইউনিয়নের যুব লীগ নেতা​ দেলোয়ার হোসেন।​
অভিযোগে উল্লেখ যে, ২৭-৫-২০​ আগিয়া ইউনিয়নের হতদরিদ্র চালের​ ৯ বস্তা চাল আত্মসাৎ করে এবং বিভিন্নভাবে দীর্ঘদিন ধরে​ বিক্রি করে আসছিল ডিলার,​ নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে কুলসুম আক্তার​ হাতেনাতে ধরার ব্যাপারে জেনে​ ​ ও আইনগত​ কোন ব্যবস্থা নেননি।​ তাছাড়া​ ​ কার্ড পেয়েও চাল পায়নি, অনেকেই কার্ড হয়েছে​ জানে না । ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম রুবেল​ ও মেম্বারদের কার্ড নিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম, দূর্নীতি​ রয়েছে । ডিলার নজরুল ইসলাম সহ ইউপি চেয়ারম্যান মিলে ৭৫ টি কার্ডের চাল আত্মসাৎ করে বিক্রি করে আসছে।​ নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে সালমা আক্তার কাছে উপযুক্ত​ ​ প্রমাণ​ নিয়ে গেলে ও কোন কিছুর সংশোধন করেননি। কার্ডধারীরা অনেকেই​ চাল পায়নি,এমনি কিছু নাম আছে যারা ২বছর আগে মারা গেছে।​
উক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল -মামুনের তদন্ত করেন। ৪-৬-২০​ ইং অভিযুক্তকারীদের উপস্থিতিতে ৩জন স্বাক্ষী গ্রহণ করেন। তদন্তে অভিযোগকারী ইউপি চেয়ারম্যান ও নির্বাহী কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় কার্ড সংশোধন করার জন্য। উল্লেখ কার্ডধারী স্বাক্ষীদের ভূয়া স্বাক্ষী​ ​ প্রদান করেন।​

অভিযোগের ভিত্তিতে​ ​ আগিয়া ইউনিয়নের কয়েকজন কার্ডধারীর কে না পেলেও পরিবারের অন্যদের​ ​ সাথে​ মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়​ তাদের মধ্যে রাবিয়া খাতুনের স্বামী আক্কাছ​ ​ আলী বলেন- প্রায় ৩বছর হয় কার্ড হয়েছে তার মধ্যে ৫বার চাল পেয়েছি আর পায়নি। আমার কার্ড হারিয়ে গিয়েছিল​ ​ থানায় জিডিও করেছি কিন্তু এর পরও কার্ড​ পায়নি,চাল ও পায়নি।​
সাজেদা বলেন- আমার কার্ড হয়েছে তা জানিনা, আর চাল পায় না। আমার কার্ড দিয়ে কে খাচ্ছে তা ও​ জানি না।​
এদিকে নির্বাহী কর্মকর্তাও ইউপি চেয়ারম্যান কে ফোন করেও পাওয়া যায়নি।​ ​ ​
দেলোয়ার হোসেন বলেন-​ ২৭মে বাট্টা বাজারে চাল আটক করলে আমি এর বিচার দাবিতে​ জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করি এবং ৪ ই জুন​ জেলা অতিরিক্ত প্রশাসক আসে ও স্বাক্ষী হাজির করি কিন্তু ২-৩জন ছাড়া অন্যদের ঢুকতে দেওয়া দেননি নির্বাহী কর্মকর্তা তাছাড়া ভূয়া স্বাক্ষী প্রদান বলে বের করে দেন​ । এর​ ১৫ ই জুন​ কিছু অপরিচিত লোক রাস্তায় বেড়িগেট করে এবং অভিযোগ উঠিয়ে নেওয়ার জন্য বলে ও মেরে ফেলার​ হুমকি​ দেয়।​ পরে ১৬ ই জুন নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে কুলসুম আক্তার​ ​ ​ ফোনে​ ​ আমাকে দেখে নিবে ও ডিজিটাল মামলা করবে বলে​ হুমকি​ দেয়।​ এই হুমকিতে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলাম তাই ৭-৬-২০ ই প্রেস ব্রিফিং করি। ৷​ সচেতন নাগরিক হিসেবে এ অনিয়ম ও দূর্নীতির​ সাথে যারা জড়িত আছে তাদের আইনের আওতায়​ আনা হোক।​

উল্লেখিত বিষয়টি​ নিজ তদন্ত পূর্বক দরিদ্র জনসাধারণের উপকারার্থে দোষী ব্যক্তিদের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানাই।​ ​ ​ ​

No comments:

Post a Comment