মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করছেন নন এমপিও শিক্ষক সমাজ - Alorpoth24.com | সত্য প্রকাশে কলম চলবেই

শিরোনাম

27 June, 2020

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করছেন নন এমপিও শিক্ষক সমাজ

মোঃ রফিকুল ইসলাম, মনোহরদী প্রতিনিধি:
বিশ্বজুড়ে চলছে করোনা ভাইরাসের আগ্রাসন।প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে সংক্রমণ।  মৃত্যুর সারি ও হচ্ছে দীর্ঘায়িত। এই সারিতে প্রতিনিয়ত যোগ হচ্ছে অনেক ভিআইপি, সেলিব্রেটি সহ দেশ ও বিদেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ।আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি ও এর বাইরে নয় ইতিমধ্যে প্রায় ১৭০০ এর মত মৃত্যু ও একলক্ষ ৩৩ হাজারের বেশি সংক্রমণ হয়ে গেছে এখানে।প্রতিনিয়তই হুমকীর সম্মুখে পতিত হচ্ছে আমাদের মানবজীবন।।সংক্রমণ প্রতিরোধে সর্বপ্রথম পদক্ষেপ হিসেবে সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে।তারপর ক্রমে ক্রমে অনান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, গণপরিবহন ও অনান্য সকল কিছু বন্ধ ঘোষণা করা হয়। সর্বপ্রথম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণার পর থেকেই এদেশের লক্ষ লক্ষ বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে যারা সম্পৃত্ত তাদের বেতন ভাতা ও সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়।এভাবে খেয়ে না খেয়ে অসংখ্য বেসরকারী শিক্ষক পরিবারকে সময় কাটাতে হচ্ছে।সরকার তাদের প্রতি কোন ভ্রুক্ষেপ ও করছেনা।অথচ তারা মহান পেশা শিক্ষকতায় জড়িয়ে সরকারকে সহযোগীতা করে যাচ্ছে।সরকারের উচিত ছিল এ বিপদের দিন বেসরকারী শিক্ষক সমাজের পাশে দাঁড়ানো।বিভিন্ন সরকারী বরাদ্দ কিংবা নূন্যতম সহযোগীতা ও এখনো বেসরকারী শিক্ষক ও কর্মকর্তারা পায়নি।ইতিমধ্যে সংবাদ পত্রে নিউজ হওয়া বেসরকারী শিক্ষকের রিক্সা চালানো এবং রাজমিস্ত্রির কাজ করাটাই সমগ্র বেসরকারি শিক্ষকদের প্রতিচ্ছবিই বহন করে।অসংখ্য শিক্ষক রাতে ঘুমাতে পারে না ক্ষুধার জ্বালায় কিন্তু তারা মুখ ফোটে কাউকেই তাদের দূর্দিনের কথা বলতে পারছে না শুধুমাত্র আত্নসম্মানের ভয়ে।ইতিমধ্যে অনেকে তাদের পেশাকে বদলে ফেলার চিন্তা করছেন কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আকার ইংগিতে অনেকেই তাদের হতাশা প্রকাশ করছেন।একে একে আমাদের দেশের সবকিছুই খুলে যাচ্ছে এবং অনান্য সকল পেশার মানুষ কম হলে ও তাদের জীবিকার ব্যাবস্থা করতে পারছে কিন্তু এক্ষেত্রে বেসরকারি শিক্ষক কর্মকর্তারা অসহায়।তারা জানে না কবে খুলবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।অজানা এক দূরের স্বপ্নকে বুকে লালন করেই তারা পাড়ি দিচ্ছে বর্তমানের দিনগুলো।আমাদের দেশের নামকরা কয়েকটা বেসরকারি স্কুল কলেজ শিক্ষক কর্মচারীদের সামান্য পরিমাণ বেতন ভাতা দিলে ও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান বেতন ভাতা বন্ধ করে রেখেছে।কিন্তু বেসরকারি শিক্ষকরাও তো মানুষ।তাদের ও পরিবার আছে।তাদের পেটে ও ক্ষুধা আছে।অন্তত পক্ষে দু- বেলা দু-মুঠো ডাল ভাত খেয়ে বেঁচে থাকার মানবাধিকার তো তাদের আছে।তারা ও এদেশের নাগরিক।সরকারের প্রতি যেমন নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে অনুরুপভাবে এ দুঃসময়ে সরকারও তার দায়িত্ব এড়াতে পারে না অবহেলিত এ শিক্ষক সমাজের প্রতি।বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে সকল সেক্টরের লোকদের কথাই চিন্তা করেছে।গার্মেন্টস সেক্টরে প্রণোদনা, কওমী মাদরসার জন্য বরাদ্দ, মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিনদের সাগায্য সহ অসংখ্য সহযোগীতা করেছে।মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আকুল আবেদন, আপনি হয়তো বলে দিন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিকদের বেতন ভাতা পরিশোধ করতে অন্যথায় আপনি এ মহা দূর্যোগে তাদের প্রতি একটু সুদৃষ্টি প্রদান করুন।শুধুমাত্র এ দুটি থেকে একটি পদক্ষেপ যদি বাংলাদেশ সরকার বাস্তবায়ন করে লক্ষ লক্ষ বেসরকারি শিক্ষক সমাজ ও তাদের পরিবার আপনার এ অবদান চির কৃতজ্ঞতার সাথে মনে রাখবে। 

No comments:

Post a Comment