ঈদের জামায়াতের টাকা তোলা সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা, স্থানীয় এমপির এলাকা পরিদর্শন - Alorpoth24.com | সত্য প্রকাশে কলম চলবেই

শিরোনাম

26 May, 2020

ঈদের জামায়াতের টাকা তোলা সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা, স্থানীয় এমপির এলাকা পরিদর্শন


 
মোঃ সাজেদুল ইসলাম, মাগুরা প্রতিনিধিঃ মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলায় ঈদের নামাজ শেষে টাকা তোলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে উপজেলার ৩ নং শ্রীকোল ইউনিয়নের খোর্দ্দরহুয়া ও সরইনগর গ্রামে অন্তত: শতাধিক বাড়িঘরে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট ও হামলায় ৫ পুলিশসহ অন্তত: ২০ জন নারী-পুরুষ আহত ঘটনায় ১৯১ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরো ৮/৯ শ লোকের নামে মামলা দায়ের করেছে শ্রীপুর থানা পুলিশ।

২৫ মে রাতেই এ মামলা দায়ের হয়েছে বলে গতকাল ২৬ মে বিকেলে নিশ্চিতকরেছে শ্রীপুর থানা ওসি মোঃমাহাবুবুর রহমান। আহত গ্রামবাসীদের মধ্যে ৪ জনকে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শতাধিক শর্টগানের গুলি বর্ষন করেছে । ২৫ মে সোমবার এ ঘটনা ঘটে। গতকাল ২৬ মে মাগুরার এমপি সাইফুজ্জামান শিখর ক্ষতি গ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেছে বলে জানা গেছে।

এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শ্রীকোল ইউনিয়ন শাখা আওয়ামীলীগের সভাপতি আমীর হোসেন মোল্ল্যার সাথে স্থানীয় আবু বক্কার মোল্ল্যা, হাফিজুর রহমান, কনা, শাহিনুর রহমান ও আবু সাঈদ মন্ডল-গং এর দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিলো। এরই জের ধরে ২৫ মে সোমবার এই ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। আওয়ামীলীগ সভাপতি আমীর মোল্ল্যার প্রতিপক্ষ স্থানীয় সামাজিক দলের এই পাঁচ নেতা শ্রীকোল ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও শ্রীপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এম.এম.মোস্তাসিম বিল্লাহ সংগ্রামের নেতৃত্বে চলে বলে অনেকে জানিয়েছেন।

ঘটনার বিষয়ে সরইনগর গ্রামের শ্রীকোল ইউনিয়ন শাখা আওয়ামীলীগের সভাপতি মো: আমীর আলী মোল্লা বলেন – খোর্দ্দরহুয়া গ্রামের ঈদগাহে ঈদের নামাজ শেষে টাকা তোলা ও নাম ঘোষনার সময়ে হঠাৎ আমার প্রতিপক্ষ আবু বক্কার তার লোকজন দিয়ে আমার সমর্থক নুরুল হোসেন, ওসমান, আবু, হারেজ সহ বেশ কয়েকজন লোককে পিটিয়ে আহত ও কুপিয়ে জখম করে। এর কিছুক্ষন পরেই শ্রীকোল, পূর্ব শ্রীকোল, খোর্দ্দরহুয়া, রামনগর, মিনগ্রামসহ-এই পাঁচ গ্রামের ৩/৪ হাজার লোক দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আমাদের গ্রামে এসে আমার নিজের বাড়ি সহ আমার সমর্থকদের শতাধিক বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে।

তবে রিরোধীপক্ষের স্থানীয় সামাজিক দলের নেতা আবু বক্কার মোল্ল্যা বলেন, তিনি কোন ঝামেলা করেননি। বরং আমীর মোল্লার লোকজনই ঈদের মাঠে টাকা তোলা নিয়ে ঝামেলা বাঁধিয়েছে।

শ্রীকালে ইউনিয়ন পরিষদের ১ নং ওয়ার্ড সদস্য মো: ফরিদুল ইসলাম বলেন -প্রথমে ঝামেলা হলো খোর্দ্দরহুয়া গ্রামে। কিন্তু কিছুক্ষন পরেই এক দেড় কিলোমিঠার দূরের সরইনগর গ্রামের ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আমীর আলী মোল্লার সমর্থক নেকবর মোল্ল্যা, নজরুল শেখ, জহুর ফকির, আহম্মদ ফকির, লিয়াকত মন্ডল, রেজাইল মোল্ল্যা, আজিজ মোল্ল্যা, খালেক মোল্ল্যা সহ শতাধিক বাড়িঘরে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়ির গরু ছাগল ও লুট করা হয়। তিনি দাবি করে বলেন, চেয়ারম্যান সংগ্রাম নিজে হেলমেট মাথায় দিয়ে সরইনগর গ্রামে এসে এই ভাংচুরের নেতত্ব দিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত সকলে আমীর মোল্লার সমর্থক ।

এদিকে শ্রীকোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও শ্রীপুর উপজেলা শাখা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এম.এম. মোস্তাসিম বিল্লাহ সংগ্রাম-এর সাথে ফোনে কথা বললে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান–আমি আমাদের মসজিদে নামাজ শেষ করে বাড়িতে এসে দেখি মোবাইলে অনেকগুলো মিসকল উঠে আছে, পরক্ষনেই দারোগার ফোনের মাধ্যমে গন্ডগোলের খবর জানতে পারি।আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান– আমি সারাদিনের ভীতরে ঐ এলাকায় যায়নি। ।

শ্রীপুর থানার ওসি মো: মাহাবুবুর রহমান বলেন- চার-পাঁচটি গ্রাম থেকে একযোগে প্রচুর লোক এসে সরইনগন গ্রামে এসে হামলা করে ভাংচুর করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের শতাধিক শর্টগানের গুলি ছুড়েছে । দুর্বৃত্তদের ছোড়া ইটের আঘাতে আমার পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। বর্তমানে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পরিস্থিতি অনেকটায় নিয়ন্ত্রণে ৮ জনকে আটক করা হয়েছে , লুটকৃত ৫টি গরু উদ্ধার করা হয়েছে , ১৯১জনের নামসহ অজ্ঞাত আরো ৮ /৯ শত লোকের নামে পুুুলিশের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়েছে।

No comments:

Post a Comment