জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনলাইন ক্লাসের প্রতি আগ্রহের কমতি - Alorpoth24.com | সত্য প্রকাশে কলম চলবেই

শিরোনাম

04 May, 2020

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনলাইন ক্লাসের প্রতি আগ্রহের কমতি



জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের ছুটির মধ্যে বাসায় পড়ালেখা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কলেজগুলোতে অনলাইনে ক্লাস শুরু করতে বলা হয়েছে।  এমন নির্দেশনার পর শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়েছে। এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
শিক্ষকরা বলছেন, যেখানে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে গত ৩০ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এক সভায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন অর রশীদ নিজেই বলেছেন, কলেজগুলোতে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয়। কলেজগুলোর সেই অবকাঠামো নেই। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও সেই সক্ষমতা নেই।  সেখানে হঠাৎ করে তার বিপরীতমুখী নির্দেশনা বিশেষ করে ক্লাস কার্যক্রম না চালিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা চরম স্বেচ্ছাচারিতার সামিল বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। অনেকে একে তুঘলকিকাণ্ড বলেও অভিহিত করেছেন।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বলছেন, গত কয়েক বছরে সেশনজট নিরসনের নামে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে একই স্টাইলে কেবল শিক্ষার্থী ভর্তি ও পরীক্ষা নিয়েছে।  শ্রেণি কার্যক্রমের বালাই ছিলো না। এটা কলেজের নৈতিকতা আর সময় প্রাপ্তির ওপর নির্ভরশীল ছিলো।
তারা বলছেন, করোনাভাইরাসের মধ্যে কলেজগুলো বন্ধ থাকায় ক্লাস কার্যক্রমও বন্ধ আছে। তাছাড়া শিক্ষার্থীরা আছে মানসিক ট্রমার মধ্যে। অনেকে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী কাজে নিযুক্ত আছেন। আবার কেউবা পরিবারের সদস্য নিয়ে টানাপড়েনে আছেন। হাসপাতালেও থাকতে পারেন কেউ কেউ। এমন পরিস্থিতিতে ছুটির পর পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণায় ইতিপূর্বে ভর্তি আর পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টিই প্রমাণ করছে বলেও মনে করেন তারা।
রোববার (০৩ মে) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও পরামর্শ দফতরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. ফয়জুল করিমের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নভেল করোনাভাইরাসের কারণে দেশের সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন সব কলেজকে অনলাইনের মাধ্যমে ক্লাস নিতে আহ্বান জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।  ওই সভার সিদ্ধান্তের আলোকে লকডাউন চলাকালে শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নিতে অধিভুক্ত প্রায় ২ হাজার ২৬০টি কলেজে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বেশ কিছু নির্দেশনা দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ।
নির্দেশনায় বলা হয়, যেসব কলেজের অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে তারা জরুরি ভিত্তিতে অন-লাইন ক্লাস চালু করবে। যেসব কলেজ-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন-লাইন ক্লাস সুবিধা নেই, তাদেরকেও দ্রুত এই সুবিধার আওতায় আসতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি করা মোবাইল অ‌্যাপস কিংবা জুম সফটওয়্যার ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অন-লাইন ক্লাসে যুক্ত হওয়ার জন্য বলা হচ্ছে।  ইতোমধ্যে রাজশাহী কলেজসহ বেশ কয়েকটি কলেজে প্রতিষ্ঠান অন-লাইন ক্লাস শুরু করেছে।

বলা হয়েছে, কভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়ার পূর্ব পর্যন্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজে কোনো সেশনজট ছিলেঅ না। সেই ধারাবাহিকতা বহাল রাখতে লকডাউন শেষে পরীক্ষা অনুষ্ঠানের জন‌্য প্রতিটি শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ ঘরে বসে পরীক্ষার যাবতীয় প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। এই দুর্যোগ কাটিয়ে ওঠার পর আমরা যেন একের পর এক পরীক্ষা নিতে পারি তার সব প্রস্তুতি কলেজ ও শিক্ষার্থীদের থাকতে হবে। এক্ষেত্রে সেশনজট নিরসনে আগে যেমন আমরা ক্রাশ প্রোগ্রাম করে সফল হয়েছি। সেই রকম মেথড প্রয়োগ করা হবে।
আরও বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের মনে রাখা উচিত কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সিংহভাগ কারিকুলাম শিক্ষার্থীকে তার নিজ উদ্যোগে সম্পন্ন করতে হয়। এই মহামারি চলাকালীন শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ও দ্বায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং নিজ নিজ বাড়িতে বসে তার কারিকুলাম অনুযায়ী পাঠগ্রহণ করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও অনলাইন কার্যক্রম চালু রাখতে হবে। ছুটি দীর্ঘায়িত হলে নতুন করে সেশনজটে না পড়তে পরীক্ষা ও উত্তরপত্র মূল্যায়নের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য শিক্ষকদের কাজ করে যেতে হবে।

No comments:

Post a Comment