মাগুরায় করোনা আক্রান্তদের নামমাত্র গৃহবন্দী করে দায় সারার চেষ্টা - Alorpoth24.com | সত্য প্রকাশে কলম চলবেই

শিরোনাম

13 May, 2020

মাগুরায় করোনা আক্রান্তদের নামমাত্র গৃহবন্দী করে দায় সারার চেষ্টা


মোঃ সাজেদুল ইসলাম 
-মাগুরা প্রতিনিধি :
মাগুরায় লকডাউন ঘোষণার মধ্য দিয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত পরিবারগুলোকে গৃহবন্দী করে রাখা হলেও ওই সব পরিবারের অন্যান্যদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার দিকে নজরদারি নেই স্বাস্থ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের। এতে সংক্রমিত ওই সব পরিবারের মাধ্যমে প্রতিবেশী এবং অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সাধারণ এলাকাবাসী ।

স্থানীয়রা জানান, গত ৮ এপ্রিল মাগুরা শহরের প্রাণকেন্দ্র কলেজ পাড়ায় প্রথম এক করোনা রোগী শনাক্ত হয়৷ এরপর থেকেই স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনের পক্ষ হতে আক্রান্ত ব্যক্তির আবাসস্থল ও সম্প্রতি ঢাকা থেকে আসা নিকট আত্মীয়ের বাড়িসহ তিনটি বাড়ি আনুষ্ঠানিকভাবে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। এসময় তাদের বাড়িতে আবদ্ধ থাকতে হবে। প্রয়োজনীয় সব কিছুর জোগান দেয়া হবে বলে জানানো হয়।

পরদিন আক্রান্ত ব্যক্তির পরিবারসহ মোট আটজনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। কিন্তু এ ব্যাপারে কোন তদারকির ব্যবস্থা না থাকায় লকডাউনে থাকা প্রতিবেশী পরিবারগুলি নিজ ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিভিন্ন মাধ্যমে জোগাড় করে নিতে থাকেন। অপরদিকে পার্শবর্তী প্রধান সড়ক সংলগ্ন ঢাকা থেকে আসা নিকট আত্মীয়ের দু’টি বাড়ি লাল পতাকার চিহ্ন বিহীন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় থাকার কারণে বাড়িতে নিয়মিত কাজের বুয়ার আনাগোনাসহ উন্মুক্ত পরিবেশ দেখা যায়। এ থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় শংকিত হন স্থানীয় এলাকাবাসী। আক্রান্ত ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য বিভাগের তত্ত্বাবধানে রেখে যথাযথ চিকিৎসার দাবি জানান তারা।

এ ব্যাপারে ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবু রেজা নান্টু জানান, লকডাউন ঘোষণার পর হতে লকডাউনে থাকা অনেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের জন্য বারবার ফোন দেন। লোকবলসহ তেমন ব্যবস্থা নেই। তারপরও নিজেই কয়েকবার গিয়ে ব্যাবস্থা করে এসেছেন তিনি। কেউ কেউ বাহিরেও চলে যাচ্ছেন, যার পেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে।

রোববার বিকেলে বিষয়গুলি তুলে ধরার পর মাগুরার সিভিল সার্জন ডা. প্রদীপ কুমার সাহা বলেন, লকডাউন ঘোষণা পরবর্তী বিষয় দেখভালের দায়িত্ব প্রশাসনের। আমরা সার্বক্ষণিক তাদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছি।

তবে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে এ বিষয়ে অনেক ক্ষেত্রেই কিছুটা উদাসীনতা দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসক আশরাফুল আলমের দৃষ্টিতে আনা হলে তিনি বলেন, সংকট মোকাবেলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। তবে এ পরিস্থিতিতে নিজেদের সুরক্ষা নিজেদেরই নেয়া জরুরী বলে মন্তব্য করেন তিনি ।

অতঃপর সোমবার সকালে লকডাউন ঘোষণায় অরক্ষিত থাকা বাড়ির সদস্যদের একজনের করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবরে এলাকাবাসীর সেই আশঙ্কা এবার বাস্তব রুপ নিতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

No comments:

Post a Comment