করোনায় ঈদ শপিং - অমানবিক অবিবেচক কর্মকাণ্ড - Alorpoth24.com | সত্য প্রকাশে কলম চলবেই

শিরোনাম

20 May, 2020

করোনায় ঈদ শপিং - অমানবিক অবিবেচক কর্মকাণ্ড


রহমত উল্লাহঃ
করোনার থেকে বাঁচার মূলমন্ত্র, "সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন করোনা আক্রান্ত হয়ে ভাইরাস ছড়ানো থেকে বিরত থাকুন।"
দেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকেও নিয়মিত বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হচ্ছে, "কোভিড ১৯ থেকে বাঁচতে হলে, ঘরে থাকি সুস্থ থাকি"

কিন্তু আমাদের দেশের আমজনতা এসব মানবে কেন? তাদের তো ঈদ উদযাপন করতে হবে! আর ঈদের শপিং ছাড়া ঈদ আবার হয় নাকি?

বিবেকবোধ এদের নিশ্চিতই ঘুমিয়ে আছে, কারণ জাগ্রত বিবেক এভাবে যুদ্ধকালীন সময়ে মৃত্যু মাথায় নিয়ে ঈদ শপিং করতে ঠিকই বাধা দিত।

একদিকে প্রতিদিন দেশে করোনা আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা পূর্বের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাচ্ছে, আর অন্যদিকে কিছু বিবেকহীন মানুষ ঈদ শপিংয়ের নামে দেশের চলমান সংকট কে আরো তরান্বিত করছে নিঃসন্দেহে। যারা এই মরণঘাতী করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও নিজেদের   সন্তান নিয়ে মার্কেটে গিয়ে কোনো প্রকার স্বাস্থ্যবিধি কিংবা সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে ঈদ শপিং করছেন, তারা কি পত্রিকা পড়েন না? টিভিতে সংবাদ দেখেন না? এই পরিস্থিতিতে তাদের এহেন অবিবেচক কর্মকাণ্ডের মাশুল যে পুরো দেশকে, দেশের মানুষকে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে তাদের কি সেটা বোধগম্য হচ্ছে না?
তাদের জন্য, তাদের সন্তান, পরিবার, সমাজ, সর্বোপরি দেশের মানুষের উপর যে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে, এই সামান্য বোধের কি তাদের মধ্যে উদয় হচ্ছে না?

এবার মানবিক দিকটা দেখি..
দেশের প্রায় ৭ কোটি মানুষ নিম্ন আয়ের। মহামারী করোনা পরিস্থিতি এই মানুষ গুলোর মুখের খাবার পর্যন্ত কেড়ে নিচ্ছে। একবেলা খাবার জোটানো তাদের পক্ষে কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে যাচ্ছে। তাদের আয় রোজগারের সমস্ত পথই বন্ধ বলা চলে। এমুহূর্তে সরকার বা উচ্চবিত্ত মানুষের ত্রাণ সহায়তাই তাদের দুমুঠো খাবারের জোগান দেয়, অবশ্য যদি ত্রাণ সহায়তা পায়! অন্যথায় ভুখা থেকে দিনযাপন করছে দেশের কোটি দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষ। এ মানুষ গুলোর মুখে হাসি নাই, আর আমাদের দেশের তথাকথিত কিছু মধ্যবিত্ত শিক্ষিত, উচ্চবিত্ত, মনের আনন্দে ঈদ শপিং করছেন বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে ঠিকই মুখে হাসি রেখে! তাদের মধ্যে কি মানবিকতার ছিটেফোঁটাও নেই?
দেশের নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীরও মহদূর্যোগ চলছে এই করোনা পরিস্থিতিতে। বেশিরভাগেরই চাকুরী নেই, যারা ছোটখাটো ব্যবসা বা অন্য কিছু করে সংসারের ব্যয়ভার বহন করেন, তারাও এই সংকটে নিঃস্ব অবস্থায় দিনযাপন করছেন, তাদের বেশিরভাগই আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে কারো কাছে হাত পাততে না পেরে মানবেতর জীবন যাপন করছে, তাদের দেখার কেউ নেই, অথচ অপরদিকে কিছু মনুষ্যত্বহীন, অমানবিক চরিত্রে লোক ঠিকই নিজেরা একা একা ঈদ করবে বলে ঈদের শপিং করছে! "সকলের জন্য সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে" এসব প্রবাদ বাক্য তাদের কাছে নিছকই একটা বাক্য। তারা সকলকে নিয়ে বাঁচতে চায় না, নিজেদের সুখসাচ্ছন্দ্যই তাদের কাছে মূখ্য, সর্বাগ্রে।

আমার মনে হয় না, সমাজের সব উচ্চবিত্ত বা মধ্যবিত্তরাই এমন অবিবেচক বা অমানবিক হতে পারেন। হঠাৎ টাকার মুখ দেখে ফেলা কিছু বড়লোক মানুষই বোধহয়  এভাবে দেশের এমন বিপর্যস্ত সময়ে এহেন কর্মকাণ্ড করতে পারে। আচ্ছা, যুদ্ধাবস্থায় কি করে মানুষ নিজেরদের সুখ আহ্লাদের কথা ভাবতে পারে, বোধগম্য নয়। যুদ্ধাবস্থায় মানুষ সবার আগে দেশ ও দেশের মানুষ নিয়ে ভাববে, সেটাই তো হওয়ার কথা, তাই না?
আর বর্তমান করোনা পরিস্থিতি কোনো অবস্থায় যুদ্ধের চেয়ে কম কি? সাধারণ মানুষের জীবনিযাত্রা থমকে আছে, স্থবির দেশের অর্থনীতি। সব মিলিয়ে মহাবিপর্যয়ে দেশ। সুতরাং এ পরিস্থিতিতে দেশকে ও দেশের স্বাস্থ্যখাত কে আরো অস্থিতিশীল ও বিপর্যস্ত করতে কিছু অবিবেচক মানুষের এই "ঈদ শপিং" ভয়াবহ হতে পারে।

একবার ঈদ শপিং না করলেও ঈদ উদযাপন হয়ে যাবে, কিন্তু আপনি করছেন বলে আপনার পাশের বাসার অন্য আরেকজন করার সাহস পাচ্ছে, আর এতে আপনি বা আপনারা পরের বছর যে ঈদ উদযাপন করতে নাও পারেন, সেটা কি ভাবছেন? আপনার একার জন্য হয়তো আরো হাজারো মানুষের, যারা হয়তো না খেয়েই, ঈদ শপিং না করেই ছিল, তাদেরও আর ঈদ করা নাও হতে পারে..!
যাইহোক মানুষের বিবেকবোধ জাগ্রত হোক। সবাই মানবিক আচরণ করুক একে অন্যের প্রতি, এটাই চাওয়া। কারণ এই করোনাকালে এটাই হবে সবথেকে বড় পাওয়া। তবে বিশেষ ভাবে ধন্যবাদ দেশের বড় ও নামীদামী সব শপিংমলের মালিকদের, কারণ দেশের সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় তারা তাদের শপিংমলগুলো বন্ধ রেখেছেন।

পরিশেষে একটা কথা বলি, এই ঈদ শপিংই যেন জীবনের শেষ শপিং না হয়, সেদিকটা বিবেচনায় রাখবেন!

No comments:

Post a Comment