মিতা আপারা বেঁচে থাকুক - Alorpoth24.com | সত্য প্রকাশে কলম চলবেই

শিরোনাম

27 April, 2020

মিতা আপারা বেঁচে থাকুক



মোঃ সাজেদুল ইসলাম-শ্রীপুর (মাগুরা) প্রতিনিধিঃ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (শ্রীপুর) মোঃ ইয়াসিন কবীর, তিনি তার ফেসবুকে বলেনঃ আজ মিতা আপাকে খুব মনে পড়ছে। মিতা আপা আমার প্রাইমারি স্কুল শিক্ষিকা। সবাই তাকে বড় আপা ডাকে। কেন ডাকে তা জানিনা। সবাই ডাকে তাই আমিও ডাকি। বড় আপার চড় খাইনি এলাকায় এমন শিক্ষিতজন পাওয়া ভার। আপার ধ্যান-জ্ঞানে শুধু স্কুল আর আমরা। কেবল পড়ালেখার নয়, বাড়ির ও হাঁড়ির খবর‌‌ও‌‌ তিনি রাখতেন। পেট যখন গড়ের মাঠ, অংক তখন বেহুলার বাসর ঘর-একথা আপা ভালভাবেই বুঝতেন। আর এ জন্যই প্রায় প্রত্যেকের পারিবারিক অবস্থা তিনি খোঁজ রাখতেন। আমাদের স্কোরকার্ড যেমন তার ঠোঁটের আগায়, সংসারের নাড়ী-নক্ষত্র তেমনি তার নখদর্পনে। তিনি শুধু শিক্ষক নন, তিনি জননী, তিনি আলোর পরশ কাঠি।


দিন কতক আগে টুপি পাড়ার জনৈক প্রাইমারি স্কুল শিক্ষিকা (নাম প্রকাশ বারণ; ছদ্মনাম মিতা আপা) তার এক প্রাক্তন ছাত্রের খোঁজ দিলেন। ছেলেটি আর তার নানী মিলে একটি পরিবার। বাড়ি বারুইপাড়া। মা নেই; বাবার অন্যত্র সংসার। নানি কানে শোনে না, চোখেও দেখে কম। ছাপরা টিনের ঘর। বিদ্যুৎ নেই, তাই আলো নেই। নেই পানীয় জলের ব্যবস্থা। পড়শীরা যা দেয় তাতেই কাপড় তাতেই ভাত। ছেলেটি পড়ালেখায় ভালো। মিতা আপা বুঝলেন, একটু ধরা দিলে ও পারবে। অন্যান্য ছাত্রদের পাশাপাশি ছেলেটিকেও লেখাপড়া সামগ্রী দিলেন। কিন্তু দিতে পারলেন না একটি টিউবওয়েল, বিদ্যুতের বাতি, আর একটি থাকার ঘর। তিনি প্রাইমারি শিক্ষক মাত্র; সামর্থের পরিধি নির্ধারিত। একটি টিউবওয়েলের জন্য ধর্না দিলেন অনেকের কাছে। কিন্তু, যোগফল শূন্য। একসময় মিতা আপা অন্যত্র বদলি হলেন। কিন্তু ভুললেন না সেই ছেলেটিকে। যদি একটু কিছু করা যায়। যদি একটু ধরা দেওয়া যায়! ছেলেটি ভালো করবে। ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। নানীর বয়স হয়েছে। ছেলেটিকে কে দেখবে? মিতা আপা হয়তো কেঁদেছেন ও!! কিন্তু আপা সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রতিবেদন করতে চাইলেন না। তাতে হয়তো টাকা কড়ি জুটবে কিছু, কিন্তু মানসিক চাপ বাড়বে অনেক। লোকে বলবে নানান কথা। ছেলেটি বিগড়ে যেতে পারে। 

আপার প্রতি সম্মান রেখে আমি নিজেই গেলাম সেদিন। নিচের যে ঘরটি দেখছেন এটি সেই সংসার। বাড়িতে লাল ফ্ল্যাগ। করোনা সন্দেহে ছেলেটির স্যাম্পল পাঠানো হয়েছে পরীক্ষার জন্য। খোঁজ নিয়ে জানলাম রিপোর্ট নেগেটিভ। ফ্লাগ নামানো হলো। পাঠানো হলো খাবার।

আমি চাই এখানে একটি নতুন ঘর হবে। বিদ্যুৎ যাবে, টিউবওয়েল বসবে। ছেলেটির নির্বিঘ্নে পড়ালেখার প্রায় সকল ব্যবস্থা হবে।। দ্রুত হবে। ইনশাল্লাহ।।
মাস কয়েক হলো আমার মিতা আপা আর নেই। কুয়াশার দেশে চলে গেছেন।। আর কোনদিন ফিরে আসবেন না...
কিন্তু তিনি আজও আছেন। বারুইপাড়াতে আছেন। শ্রীপুরে আছেন। সারা বাংলাদেশে আছেন। মিতা আপারা চলে যেতে পারে না; মিতা আপারা বেঁচে থাকুক....


No comments:

Post a Comment